,

টঙ্গীতে থানা চত্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়ায় আওয়ামী লীগ নেতার ৫ স্বজন গ্রেপ্তার

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানা প্রাঙ্গণে গ্রেপ্তার হওয়া এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় প্রকাশ্যে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ক্ষিপ্রতার সঙ্গে পুলিশ অভিযান চালিয়ে থানা চত্বর থেকেই ওই নেতার পাঁচ স্বজনকে আটক করে। রোববার দুপুরে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর পুলিশ টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

ঘটনার বিবরণী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে গাজীপুর মহানগরীর ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি আ. মতিনকে (৪৭) তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরের দিন রোববার দুপুরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাঁকে গাজীপুর জেলা আদালতে পাঠাতে প্রিজন ভ্যানে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় থানায় আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া মতিনের স্বজন ও কয়েকজন অনুসারী উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

আসামিকে বের করে আনার পরপরই তাঁরা উচ্চস্বরে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘জয় জননেত্রী শেখ হাসিনা’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন। সরকারি থানা চত্বরে এবং পুলিশ পরিবেষ্টিত জায়গায় এ ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান ওঠার সাথে সাথেই তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সার্বিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে বিবেচনা করে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘেরাও করে স্লোগান দেওয়া পাঁচজনকে চত্বর থেকেই হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা সবাই গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর মরকুন এলাকার বাসিন্দা এবং কৃষক লীগ নেতা আ. মতিনের নিকটাত্মীয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—আতিকুর রহমানের ছেলে মো. মাহদী হাসান (২৬), মৃত আব্দুর রউফের ছেলে হারুনর রশীদ (৩৪), মজিবুর রহমানের মেয়ে জহুরা বেগম (৫৫), মো. কাউছার আলীর মেয়ে শারমিন সুলতানা (৩৭) এবং মৃত শহীদ মিয়ার মেয়ে শাহিদা আক্তার (৩৬)।

ঘটনার পরই আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে টঙ্গী পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি করা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। এই মামলায় সদ্য আটক হওয়া পাঁচ স্বজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি আরও দুই জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তা ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে এতে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

থানার ভেতর আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম জানান, সরকারি স্থাপনা ও কোনো সরকারি দপ্তরের ভেতরে জোর করে এভাবে রাজনৈতিক পরিবেশ বা স্লোগান দেওয়া সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। থানার নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কাজ বিঘ্নিত করার মতো ঘটনা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে কঠোর বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে এজাহারভুক্ত আসামিদের পাশাপাশি বাকি পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।