জামালপুরে চোরাই মোটরসাইকেলসহ রবিউল হাসান সোহাগ নামে এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার রাতে সদর উপজেলার রশিদপুর পাকুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর বিক্রি করা বলে দাবি করা একটি চোরাই মোটরসাইকেল রশিদপুর বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার রবিউল হাসান সোহাগ জামালপুর সদর উপজেলার ১৫ নম্বর রশিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি ওই ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা গেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর ইসলাম তালুকদার।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল চুরির মামলায় রিমান্ডে থাকা তিনজন—ফারুক, রাজ্জাক ও সাদ্দাম—জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোহাগের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে রশিদপুর পাকুল্লা এলাকায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। অভিযান শেষে সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া চোরচক্রের সদস্যরা দাবি করেছেন, চুরি করা মোটরসাইকেল বিক্রির দায়িত্বে ছিলেন সোহাগ। তাঁদের দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পুলিশ পরে রশিদপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। ডিবির দাবি, সেটি সোহাগের মাধ্যমে বিক্রি করা একটি চোরাই মোটরসাইকেল।
গোয়েন্দা পুলিশের ভাষ্য আরও, সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একটি চক্র পরিচালনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলটির মালিকানা, এটি কোথা থেকে চুরি হয়েছিল এবং কীভাবে সেটি রশিদপুর এলাকায় পৌঁছেছে, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
মোটরসাইকেল চুরি ও চোরাই যানবাহনের কেনাবেচা ঠেকাতে পুলিশ সাধারণত চুরি যাওয়া যান শনাক্ত, উদ্ধার এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করে। এ ধরনের ঘটনায় শুধু সরাসরি চুরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নয়, চুরি করা যানবাহন কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকাও তদন্ত করা হয়। জামালপুরের এই ঘটনাতেও গোয়েন্দা পুলিশ চক্রটির কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানিয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহীনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, গ্রেপ্তার সোহাগকে রোববার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধ এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের দাবি, রিমান্ডে থাকা তিন ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সোহাগের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। এখন তদন্তে তাঁদের বক্তব্যের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের সামঞ্জস্য যাচাই করা হবে।
সোহাগের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম এবং তদন্তের অগ্রগতির মধ্য দিয়ে চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে তাঁর প্রকৃত সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্পষ্ট হবে।









