ওয়েম্বলিতে জমজমাট লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে বিশ্বকাপজয়ী স্পেন। ২-১ গোলে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয় স্প্যানিশরা। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের পেনাল্টি মিসের পর। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর নেওয়া শট বারে লেগে ফিরে আসে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। মার্ক গেহির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠেন লামিনে ইয়ামাল। এরপর নিখুঁতভাবে জেমস ট্রাফোর্ডকে পরাস্ত করে স্পেনকে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল খাওয়ার পরও ইংল্যান্ডের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে স্পেন। ফেরান তোরেসের একটি প্রচেষ্টা দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন ট্রাফোর্ড। কিছুক্ষণ পর আরও একটি ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন পিএসজির এই ফরোয়ার্ড, কিন্তু সেটিও কাজে লাগাতে পারেননি।
সুযোগ নষ্ট করার খেসারত অবশ্য বেশি সময় পর দিতে হয়নি স্পেনকে। ৩৬তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে ম্যাচে সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড। স্পেনের আক্রমণের সময় নিকো উইলিয়ামস পড়ে গেলে এলিয়ট অ্যান্ডারসন বল বাড়িয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডনের দিকে। গর্ডনের চমৎকার ফ্লিক থেকে বল পান জুড বেলিংহাম।
রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার মাঝমাঠ থেকে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে নিখুঁত পাস দেন বার্সেলোনার উইঙ্গার গর্ডনের দিকে। জায়গা থেকে কিছুটা সরে থাকা উনাই সিমনকে পরাস্ত করে গোল করেন তিনি। এতে ১-১ সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড।
এর কয়েক মিনিট পরই ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। নিকো ও’রাইলির ক্রস থেকে হ্যারি কেইনের হেড সরাসরি জালে জড়ায়। মার্ক কুকুরেয়া বল ঠেকানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ইংল্যান্ডের ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহামকে ফেলে দেওয়ায় রদ্রির বিরুদ্ধে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ভিএআরের পর স্ক্রিন দেখে সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়। স্পেনের বিপক্ষে ব্যবধান ৩-১ করার সুযোগ নিয়ে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন কেইন।
কিন্তু সেই মুহূর্তেই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। শট নেওয়ার সময় পিছলে যান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তাঁর নেওয়া বল বারে লেগে ফিরে আসে। পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারায় ইংল্যান্ডের ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়।
কেইনের এই ব্যর্থতার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নেয় স্পেন। এক ঘণ্টা পেরোনোর পর সমতায় ফেরে তারা। ইংল্যান্ডের নিকো ও’রাইলির ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নামা আলেক্স বায়েনা বাঁকানো শটে গোল করেন। মাঠে নামার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করেন তিনি।
সমতায় ফেরার পর স্পেন আর থামেনি। ৭৪তম মিনিটে আবারও আক্রমণ সাজান বায়েনা। এবার তাঁর পাস পেয়ে আরেক বদলি খেলোয়াড় মিকেল ওইয়ারজাবাল বল নিয়ে এগিয়ে যান। ঠান্ডা মাথায় ট্রাফোর্ডকে পরাস্ত করে গোল করেন তিনি। এতে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।
শেষ দিকে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। কোচ টমাস টুখেল মরগান গিবস-হোয়াইট ও ডমিনিক ক্যালভার্ট-লুইনকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্পেনের রক্ষণ ভেদ করে আর গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ৩-২ গোলের জয় নিশ্চিত করে স্পেন। ২-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচে ফিরে এসে জয় তুলে নেওয়ায় স্প্যানিশ দলের মানসিক দৃঢ়তাও ফুটে ওঠে। অন্যদিকে, শুরুতেই গোল হজম করেও ঘুরে দাঁড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার পর পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হারানো ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি।
এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে নতুন নেশনস লিগ মৌসুমে প্রথম হারের মুখ দেখল ইংল্যান্ড। আর ওয়েম্বলিতে গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়ে নিজেদের অভিযানে বড় সাফল্য যোগ করল স্পেন।









