কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাঁড়াশি অভিযানে ৩৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১টা পর্যন্ত নগরীসহ জেলার ১৮টি থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় একযোগে অভিযান চালানো হয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দমনে ধারাবাহিকভাবে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পাঁচ দফায় পরিচালিত অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবারের অভিযানে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থান ছাড়াও জেলার ১৮টি থানার আওতাধীন একাধিক এলাকায় পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নেন। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এবং ডিবি পুলিশ সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে। জেলা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অভিযানে সরাসরি অংশ নেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, নগরী ও জেলার যেসব এলাকায় কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাতের অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থানকে অভিযানের আওতায় নেওয়া হয়। বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহভাজনদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হয়েছে। এ সময় মোট ৩৬৩ জনকে আটক করা হয়।
তবে আটক হওয়া সবাই অপরাধী—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো দেয়নি পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, সেটিই যাচাই করা হচ্ছে। ফলে আটকের পর যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটি এই অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, উঠতি বয়সী কিশোরদের একটি অংশ যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে কিশোরদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে।
কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এর সঙ্গে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সামাজিক পরিবেশও জড়িত। অল্প বয়সে অপরাধপ্রবণ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে একজন কিশোরের স্বাভাবিক শিক্ষা ও সামাজিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণগুলো চিহ্নিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে অভিযানের সময় নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। তাঁর ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পুলিশ সতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় মনিটরিং করা হচ্ছে।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ দফার অভিযানে মোট ২ হাজার ৫ জনকে আটক করার মাধ্যমে কুমিল্লার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় পুলিশের ধারাবাহিক তৎপরতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযানে আটক হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পুলিশ দেয়নি। বরং আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাইয়ের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর অপরাধ ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অপরাধে জড়িত নয়—এমন কাউকে যেন অযথা হয়রানি করা না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হবে। কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।









