টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ ওঠার পর সেলিম হোসেন নামে এক যুবদল নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের (শিমলাপাড়া) যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে শিমলাপাড়া গ্রামে ২০ পিস ইয়াবাসহ শরিফ (২১) নামে এক যুবককে স্থানীয়রা আটক করার পর বিষয়টি সামনে আসে। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শরিফ হেমনগর ইউনিয়নের উদ্যমপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়দের দাবি, ইয়াবা কেনার জন্য শরিফ শিমলাপাড়া গ্রামের সেলিম হোসেনের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানেই স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। আটকের পর শরিফ দাবি করেন, তিনি সেলিম হোসেনের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকায় ২০ পিস ইয়াবা কিনেছেন। এর আগেও একই ব্যক্তির কাছ থেকে তিনবার ইয়াবা কেনার দাবি করেন তিনি।
তবে শরিফের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেলিম হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, তাকে উদ্দেশ্য করে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, টাকা দিয়ে ইয়াবা কিনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ঘটনার পর উপজেলা যুবদলের পক্ষ থেকে সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান জসিম এবং সদস্যসচিব বদিউজ্জামান রানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনৈতিক ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিতে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদালতের রায় বা চূড়ান্ত তদন্তের ফল উল্লেখ করা হয়নি। শরিফের অভিযোগ এবং সেলিম হোসেনের অস্বীকার—দুই পক্ষের বক্তব্যই এখন পর্যন্ত সামনে রয়েছে। ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০ পিস ইয়াবাসহ আটক শরিফের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার হওয়া মাদক এবং তার দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে একজন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি আইনগত তদন্ত ও পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
সেলিম হোসেনের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের ফলে হেমনগর ইউনিয়নের শিমলাপাড়া ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সংগঠনের পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বা নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।









